সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
বাংলাবাজার পত্রিকা.কম দেশে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক আছে: জ্বালানিমন্ত্রী বাংলাবাজার পত্রিকা.কম মার্কিন ও ইসরায়েলি ঘাঁটিতে ৭৬ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালালো ইরান বাংলাবাজার পত্রিকা.কম হাবিবুল বাশারকে প্রধান করে জাতীয় দলের নতুন নির্বাচক প্যানেল ঘোষণা বাংলাবাজার পত্রিকা.কম ফেসবুকে রিলস ও পোস্ট শেয়ার করে মাসে ৩০০০ ডলার আয়ের সুযোগ! বাংলাবাজার পত্রিকা.কম ফুটপাত-সড়ক থেকে অবৈধ স্থাপনা সরাতে ডিএমপির আল্টিমেটাম বাংলাবাজার পত্রিকা.কম পুলিশ-প্রশাসনের সহায়তায় পেট্রোল পাম্প চালু রাখার আহবান বাংলাবাজার পত্রিকা.কম ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার পরিকল্পনা ৫ দিন স্থগিত: ট্রাম্প বাংলাবাজার পত্রিকা.কম আন্তর্জাতিক বাজারে কমলো জ্বালানি তেলের দাম বাংলাবাজার পত্রিকা.কম বিসিবির মিডিয়া কমিটির নতুন চেয়ারম্যান মোখছেদুল কামাল বাংলাবাজার পত্রিকা.কম বাংলাদেশি ওয়াহিদকে বিয়ে করলেন রুশ মডেল মনিকা কবির

আর্দশ হিন্দু হোটেল

আর্দশ হিন্দু হোটেল

মোহাইমানুল ইসলাম নিয়ন

আমার পড়া সেরা কিছু উপন্যাসের যদি তালিকা করি, তাতে প্রথম সারিতেই স্থান পাবে জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদর্শ হিন্দু হোটেল বইটি। জনপ্রিয় এই লেখকের অসংখ্য উপন্যাসের মাঝে অন্যতম সেরা উপন্যাস বলেই ধরা হয় ‘আদর্শ হিন্দু হোটেল’কে। বইটি নিয়ে বলার আগে বলবো বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখার সাথে আমি পরিচিত হই সর্বোপ্রথম এই উপন্যাসটি পড়েই। এর আগে অনেকের মুখে শুনেছি তার লেখার এমনই এক জাদু যে একটা উপন্যাস দিয়ে শুরু করলেও নির্দিধায় কৌতূহল জাগবে আরেকটি উপন্যাস পড়ার। এর কারণ আমার মনে হয় লেখকের লেখনীর ধার। প্রথম ধাপে আপনার মনে হতে পারে বিভূতিভূষণের লেখা অনেক বেশি বর্ণনামূলক, কিন্তু সময়ের সাথে সাথে আপনি ম্যাজিকের মতোই লেখায় বুদ হয়ে যাবেন। 

‘আদর্শ হিন্দু-হোটেল’ উপন্যাসের মূল চরিত্রে রয়েছে 'হাজারি ঠাকুর'। বউ ও মেয়েকে গ্রামে রেখে সে রানাঘাটের বেচু চক্কত্তির হোটেলে সে রাঁধুনির চাকরি করে। কিন্তু স্বপ্ন তার আকাশ ছোঁয়া। সে চায় নিজের হোটেল খুলতে। সুদূর কলকাতা থেকেও তার রান্নার সুনাম শুনে খেতে চলে আসে বড় বাবুরা। তার রান্নার প্রশংসায় সবাই পঞ্চমুখ থাকলেও বেচু চক্কত্তি আর পদ্ম ঝি তাকে সবসময় তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেই চলে। বিশেষত তার এই সুনাম যে সুদূর কলকাতা পর্যন্ত চলে গেছে এটা সহ্য হয় না পদ্ম ঝিয়ের। সে সবসময় নীচু চোখেই দেখে হাজারিকে। এই রানাঘাটে আছে হাজারির এক পাতানো মেয়ে কুসুম, যে দই আর দুধ বিক্রি করে সংসার চালায়। হোটেলে ভালো ভালো খাবার রান্না হলে হাজারি ঠাকুর নিজে না খেয়ে মেয়ের জন্য নিয়ে যায়। ব্যাপারটা পদ্ম ঝি'র সহ্য হয় না। কারণ সে সবসময় বেঁচে যাওয়া খাবারটুকু নিজেই সাবাড়ের লোভে থাকে। গল্পের সাথে স্পষ্ট হতে থাকে হাজারির স্বপ্ন। তার নিজের একটা হোটেলের স্বপ্ন, যেই হোটেলে বড় বড় করে লেখা থাকবে- হাজারি চক্রবর্তীর হিন্দু-হোটেল, রাণাঘাট। গল্প পড়তে পড়তে আপনার হয়তো মনে হবে রানাঘাটে হয়তো সত্যিই এমন একটা হোটেল রয়েছে। আর সেই পদ্ম ঝি আর বেচু চক্রবর্তীর গল্পটা যেন আরও বেশি আকর্ষণীয়। গল্পের শেষটায় আমাকে দারুণ রোমাঞ্চিত করেছিল, তবে পুরো উপন্যাস না পড়ে আপনি কোনভাবেই সেই মজার ভাগিদার হতে পারবেন না। 

আমার মনে হয় যারা বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখনীর সাথে এখনও পরিচিত হতে পারেন নি, তারা প্রথম চয়েস হিসেবে অবশ্যই বেঁছে নিতে পারেন অসাধারণ এই উপন্যাসটি। হ্যাপি রিডিং।

সম্পাদক : আবদুল মাতিন